■অভিযোগঃ
হাদিসে বলা হয়েছে মানুষ জান্নাতীদের মতো কাজ করে কিন্তু তাকদিরের লিখনের জন্য শেষ মুহূর্তে মহাপাপ করে জাহান্নামী হয়ে যায়! ইসলাম অনুযায়ী আল্লাহ জোর করে তাকদিরের লিখন দিয়ে মানুষকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন!
.
■ জবাবঃ
.
☛ মূলঃ শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
☛ অনুবাদঃ মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার
.
.... ... ... ...
"... তোমাদের মধ্যে একজন জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার মাঝে এবং এর (জান্নাতের) মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, এমন সময় (তাকদিরের) লিখন সামনে চলে আসে। অতঃপর সে জাহান্নামবাসীদের মত আমল করে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে। এমনিভাবে একজন জাহান্নামবাসীদের মত আমল করতে থাকে, এমনকি তার মাঝে এবং এর (জাহান্নামের) মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, এমন সময় (তাকদিরের) লিখন সামনে চলে আসে। অতঃপর সে জান্নাতবাসীদের মত আমল করে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে। ”
[বুখারী ৩২০৮ ও মুসলিম ২৬৪৩]
.
যেসব সহীহ বিবরণকে মানুষ ভুল বোঝে এর মধ্যে এটি একটি। ইবনুল কাইয়িম(র.) যেসব উদাহরণ দিয়েছেন এর মধ্যে এটিও আছে।
.
(এই সংশয়ের) জবাব হলো, এই হাদিসের বক্তব্য তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা ঈমান ও ইখলাস সহকারে আমল করে না। বরং বাইরে থেকে দেখে তাদের আমল জান্নাতীদের আমল বলে মনে হয়। যেমনটি বুখারী (৪২০৭) এবং মুসলিমেরই (১১২) অন্য একটিও হাদিসে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
.
সাহ্ল (ইব্নু সা'দ) (রা.) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এবং মুশরিকরা মুখোমুখী হলেন। তাদের মধ্যে তুমুল লড়াই হল। (শেষে) সকলেই আপন আপন সেনা ছাউনীতে ফিরে গেল। মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে মুশরিকদের কোন একাকী কিংবা দলবদ্ধ কোন শত্রুকেই রেহাই দেয়নি বরং তাড়িয়ে নিয়ে তরবারি দ্বারা হত্যা করেছে। তখন বলা হল "হে আল্লাহ্র রাসুল! অমুক লোক আজ যতটা 'আমাল করেছে অন্য কেউ ততটা করতে পারেনি। রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বললেন, সে ব্যক্তি জাহান্নামী। তারা বলল, তা হলে আমাদের মধ্যে আর কে জান্নাতী হবে যদি এ ব্যক্তিই জাহান্নামী হয়? তখন কাফেলার মধ্য থেকে একজন বলল, অবশ্যই আমি তাকে অনুসরণ করে দেখব (তিনি বলেন) লোকটির দ্রুত গতিতে বা ধীর গতিতে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। শেষে, লোকটি আঘাতপ্রাপ্ত হলে যন্ত্রণার চোটে সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করে তার তরবারির বাঁট মাটিতে রাখলো এবং ধারালো দিক নিজের বুকের মাঝে রেখে এর উপর সজোরে চেপে ধরে আত্মহত্যা করল। তখন (অনুসরণকারী) সহাবী নবী(ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহ্র রাসুল। তিনি [নবী(ﷺ)]জিজ্ঞেস করলেন,কী ব্যাপার? তিনি তখন নবী(ﷺ)-কে সব ঘটনা জানালেন। তখন নবী(ﷺ) বললেন, কেউ কেউ জান্নাতবাসীদের মতো 'আমাল করতে থাকে আর লোকজন তাকে তেমনই মনে করে থাকে অথচ সে জাহান্নামী। আবার কেউ কেউ জাহান্নামীর মতো 'আমাল করে থাকে আর লোকজনও তাকে তাই মনে করে অথচ সে জান্নাতী।”
.
যারা সত্যিকার অর্থেই ঈমান ও ইখলাসের সাথে জান্নাতীদের আমল করে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি অত্যন্ত ইনসাফকারী, দয়ালু ও ঔদার্যবান। তিনি তাঁদের জীবন সায়াহ্নে (সকল নেক আমল নষ্ট করে) তাদেরকে বরবাদীর মাঝে ফেলেন না। বরং এরা তো ঐসব ব্যক্তি যাদেরকে তাওফিক দেয়া হয়েছে, পথ বাতলানো হয়েছে এবং যারা (সৎপথে) অটল থেকেছে। যেমনটি আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,
.
“যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে ইহজীবনে ও পরজীবনে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং যারা যালিম, আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্তিতে রাখবেন; আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন।”
[আল কুরআন, ইব্রাহিম ১৪ : ২৭]
.
“আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন।”
[আল কুরআন, আনকাবুত ২৯ : ৬৯]
.
“যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে আর ধৈর্যধারণ করে এমন সৎকর্মশীলদের কর্মফল আল্লাহ কক্ষনো বিনষ্ট করেন না।”
[আল কুরআন, ইউসুফ ১২ : ৯০]
.
“আল্লাহর (অনন্ত) নিয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তারা (বিশ্বাসীগণ) আনন্দ প্রকাশ করে। আর নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বাসীদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।”
[আল কুরআন, আলি ইমরান ৩ : ১৭১]
.
আল ফাওয়াইদ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৬৩) ইবনুল কাইয়িম(র.) বলেছেন, “একজন জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার মাঝে এবং এর (জান্নাতের) মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, এমন সময় (তকদীরের) লিখন সামনে চলে আসে” – এখানে তাদের কথা বলা হচ্ছে বাইরে থেকে দেখে মানুষের কাছে যাদের আমল জান্নাতীদের আমল বলে মনে হয়। কোনো সৎ কাজ যদি আল্লাহর কাছে কবুল হয় তাহলে আল্লাহ একে ভালোবাসেন, এর উপর সন্তুষ্ট হন এবং একে নষ্ট করে দেন না। তবুও কেউ কেউ “তার মাঝে এবং জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে” – এই হাদিসের ব্যাপারে আমাদের ব্যাখ্যার ব্যাপারে সংশয় পোষণ করতে পারে। তাদেরকে আমরা বলবোঃ সমাপ্তি কেমন হয়েছে এই অনুসারে যদি কোনো আমলকে বিবেচনা করা হয় সেক্ষেত্রে ধরা যাক কোনো ব্যক্তির তার আমল যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত ধৈর্য ছিলো না। বরং তার আমল ত্রুটিপূর্ণ ছিলো এবং এর মাঝে কোনো সমস্যা লুকিয়ে ছিলো যার দরুন জীবনের শেষভাগে এসে সে বরবাদ হয়ে গেলো। সেই লুকায়িত এবং মারাত্মক ত্রুটিটির জন্যই প্রয়োজনের সময়ে বরবাদী তাকে গ্রাস করলো। ঐ অনুযায়ী সে অগ্রসর হলো এবং যা আমল করার করে ফেললো। তার যদি কোনো ত্রুটি বা কপটতা না-ই থাকতো, আল্লাহ কখনোই তার ঈমানকে বদলে যেতে দিতেন না। ... আল্লাহ সবার ব্যাপারে এতো ভালোভাবে অবগত আছেন যে তারা নিজেরাও একে অপরের ব্যাপারে সেভাবে অবগত নেই।”
বক্তব্য সমাপ্ত।
.
ইবন রজব(র.) বলেছেন,
“আর লোকজন তাকে তেমনই মনে করে থাকে” – (হাদিসের) এই কথাগুলোর দ্বারাই এটা বোঝা যাচ্ছে যে সে আমলের বাহ্যিক অবস্থা আর ভেতরের অবস্থা এক নয়। আর এই খারাপ সমাপ্তির কারণ হলো সে ব্যক্তির অভ্যন্তরে যে সমস্যা (অর্থাৎ নিয়তে সমস্যা) লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলো। (বাহ্যিকভাবে) সেটা খারাপ আমল বা এই জাতীয় কিছু হোক না কেন, এর অভ্যন্তরের ত্রুটির জন্য মৃত্যুর সময় তা খারাপ পরিনতির কারণ হয়।
.
একইভাবে কোনো ব্যক্তি হয়তো (বাহ্যিকভাবে) জাহান্নামীদের মতো আমল করছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার ভালো কিছু উদ্যেশ্য ছিলো। আর এটা তার জীবনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। এর ফলে তার জীবনের সমাপ্তিটা হয় ভালোভাবে। আব্দুল আযিয ইবন আবু রাওয়াদ(র.) বলেছেন, “আমি এক ব্যক্তির মৃত্যুশয্যার সময় উপস্থিত ছিলাম। তাকে তখন শাহাদাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে বলা হচ্ছিলো। কিন্তু (লোকটি তা বলতে সক্ষম হলো না এবং) শেষ কথা হিসাবে যা বলেছিল তা হলোঃ তারা যে শাহাদাহ বলছে, এর উপরে সে বিশ্বাস করে না। এ অবস্থাতেই সে মারা গিয়েছিলো!
আমি [আব্দুল আযিয] তার ব্যাপারে জানার চেষ্টা করলাম। জানতে পারলাম লোকটি ছিলো মদে আসক্ত।”
আব্দুল আযিয প্রায়ই বলতেন, “গুনাহ থেকে সাবধান থাকো। ঐ লোকটির খারাপ পরিনতির কারণ ছিলো তার গুনাহ।”
.
সহজ কথায় বললে, মানুষ তার জীবনে অতীতে যা যা করতো, তার পরিনতিও ঠিক সেভাবেই হয়। আর এই সব কিছুই বহু আগে এক কিতাবে লেখা হয়ে গেছে। এ জন্যই সালাফগণ জীবনের খারাপ সমাপ্তির ব্যাপারে খুব ভয় করতেন। অতীত জীবনের গুনাহের কথা স্মরণ করে খুব চিন্তিত হতেন। সালাফদের মনগুলো তাদের জীবনের সমাপ্তি কিভাবে হবে এই চিন্তায় লেগে থাকতো। তাঁরা শুধু ভাবতেন, “আমাদের শেষটা কেমন হবে?” যাদের অন্তর সর্বদা আল্লাহর সাথে জুড়ে থাকে, তারা নিজেদের অতীতের গুনাহ নিয়ে অনবরত চিন্তা করেন। তাঁরা বলেন, “আমরা অতীতে কী কী আমল করে আসলাম?” সাহল আত তাসতারি(র.) বলেছেন, আল্লাহর পথের দিকে যারা যাত্রা শুরু করেছেন, তারা সদা আশঙ্কা করেন যে, কোনো গুনাহের কাজ করে ফেলছি না তো! আল্লাহর ব্যাপারে জ্ঞানী ব্যক্তিরা সদা ভয় করেন যে পাছে কুফরে নিপতিত হন কিনা! সাহাবী, নেককার সালাফ এবং তাঁদের পরবর্তীকালে যাঁরা আগমন করেছিলেন, তাঁরা সদা মুনাফিকিতে পতিত হবার আশঙ্কা করতেন। ভীষণ তীব্র ছিলো তাঁদের এই আশঙ্কা এবং দুশ্চিন্তা। কাজেই মুমিন বান্দা নিজের ব্যাপারে সবসময়ে এই চিন্তা করেন যে, আমি ছোটখাটো মুনাফিকিতে লিপ্ত হচ্ছি না তো! এবং আশঙ্কা করেন যে এই মুনাফিকি আমার উপর প্রবল হয়ে শেষ জীবনে আমাকে বড় মুনাফিক বানিয়ে দেবে না তো!
.
পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে যে অতীতের গুপ্ত নানা গুনাহ জীবনের একটা খারাপ সমাপ্তির কারণ হয়।”
বক্তব্য সমাপ্ত।
[জামিউল উলুম ওয়াল হুকাম ১/৫৭-৫৮]
.
শায়খ ইবন উসাঈমিন(র.) বলেছেনঃ “ইবন মাসউদ(রা.) বর্ণিত হাদিসটিতে “এমনকি তার এবং এর মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে” -এই কথার অর্থ হলো, তার এবং জান্নাতের সাথে (এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে)। এ কথার অর্থ এই নয় যে সে আমলের দ্বারা এমন অবস্থানে পৌঁছে গেছে যে জান্নাত ও তার মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব। কারণ কেউ সত্যিকার অর্থে জান্নাতীদের আমল করলে মহান আল্লাহ তাঁকে বরবাদ হতে দেন না। আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের চেয়েও অনেক বেশি ঔদার্যের অধিকারী। চিন্তা করুন, একজন বান্দা আল্লাহর প্রতি প্রচণ্ড অনুরক্ত, আর জান্নাত তাঁর থেকে মাত্র এক হাত দূরে আছে। আল্লাহ কি এমন ব্যক্তিকে সেই পথ থেকে তাড়িয়ে দেবেন? এটা অসম্ভব। বরং হাদিসের অর্থ হলো, মানুষের কাছে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে ঐ ব্যক্তি জান্নাতীদের আমল করছে। যখন তার আয়ু অল্প বাকি থাকে, তার অন্তর ঘুরে যায়। আল ইয়াযু বিল্লাহ, আমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা কামনা করি। এটাই ইবন মাসউদ(রা.) বর্ণিত হাদিসটির অর্থ। তার জীবনের আয়ু এমন শেষ দিকে চলে যায় যে “তার এবং এর (জান্নাতের) মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে”। কিন্তু সে সত্যিকার অর্থে জান্নাতীদের আমল করছিলো না, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। আমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করি আমাদের অন্তরগুলো যেন বিপথগামী না হয়। (উপরে উল্লেখিত ব্যক্তি) আমল করেছে কিন্তু তার অন্তরে লুকায়িত ছিলো শয়তানী। কাজেই মৃত্যুর সময় তার আর জান্নাতের মাঝে যখন এক হাতের মতো দূরত্ব ছিলো ঠিক তখনই সে বরবাদ হয়ে গেলো।”
বক্তব্য সমাপ্ত।
[লিক্বা আশ শাহরি ১৩/১৪]
.
কোনো কোনো আলেমের মতে হাদিসে উল্লেখিত ব্যক্তি হয়তো সত্যি সত্যি জান্নাতীদের মতো আমল করে। কিন্তু যখন তার আয়ু ফুরিয়ে আসে, শেষটা খারাপভাবে হয়। সে কুফর বা গুনাহের উপরে মৃত্যুবরণ করে। তবে এমনটি হওয়া খুবই বিরল। আর এরও কারণ হিসাবে থাকে কোনো গুপ্ত অথবা মারাত্মক অনিষ্টকর গুণ, যার উপরে ঐ ব্যক্তি অটল ছিলো। যেমনঃ খারাপ আকিদা অথবা ভয়াবহ কবিরা গুনাহ, যেগুলোর জন্য তার জীবনের শেষটা খুব খারাপভাবে হয়। আমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা কামনা করি। কাজেই আলোচ্য হাদিসটি আমাদের জন্য এমন একটি সতর্কবার্তা হতে পারে যে, আমরা যেন নিজ আমলের দ্বারা (আত্মতৃপ্তিতে ভুগে) ধোঁকায় পড়ে না যাই। আমরা যেন মৃত্যু পর্যন্ত (নেক আমলের উপর) অটল থাকার জন্য আল্লাহর নিকট সর্বদা দোয়া করি। কারণ আমাদের অন্তরগুলো পরম দয়াময় আল্লাহর দুই আঙুলের মাঝে। তিনি যেভাবে চান, সেভাবেই একে বদলে দিতে পারেন।
... ... ...
.
.
মূল ফতোয়ার লিঙ্কঃ
○ আরবিঃ https://islamqa.info/ar/96989/
○ ইংরেজিঃ https://islamqa.info/en/96989/

0 Comments